ঢাকা, ||

প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বাড়িতে উঠছেন ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন


ফিচার নিউজ

প্রকাশিত: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

প্রধান প্রতিবেদক:করোনাভাইরাস মহামারীতে কর্মহীনদের সহায়তায় দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শেরপুরের সেই ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বাড়িতে উঠেছেন। রোববার দুপুরে নবনির্মিত এই বাড়ির চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নাজিম উদ্দিনের (৮০) কাছে হস্তান্তর করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব। নিজের ভাঙা ছাপড়া ঘর মেরামতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমানো টাকা নাজিম উদ্দিন তুলে দিয়েছিলেন করোনাভাইরাসে অবরুদ্ধ কর্মহীন মানুষের সহায়তায়। দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা সেই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাজিম উদ্দিনকে জমি এবং বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাড়ি পেয়ে উচ্ছ্বসিত নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “মনে করন আমি তো করোনার জন্য ট্যাহাডা দিছি। সেখানে খুশি হইয়া প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে উপহার দিছে আমি খুব খুশি হইছি। ঘরবাড়ি সব দিল। আমি আর কোনো কিছু চাই না। আমি দোয়া করি আল্লাহ তারে [প্রধানমন্ত্রী] দীর্ঘদিন বাঁচায়ে রাখুক। যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন আল্লাহ তারে ‘রাজত্ব’ করার সুযোগ দিক।” শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব রোববার ঘরের চাবি নাজিম উদ্দিনের হাতে তুলে দেন
শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব রোববার ঘরের চাবি নাজিম উদ্দিনের হাতে তুলে দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব দয়ালদার মানুষ; তারে একটু দেখবার জন্য আমার মনটা কান্দে।”
বাড়ির চাবি হস্তান্তরের সময় ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়নাল আবেদীন, থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের নিভৃত পল্লি গারো পাহাড় সংলগ্ন গান্ধীগাঁও গ্রামে একখণ্ড খাস জমির ওপর ঘরটি নির্মাণ করা হয়। ইটের গাঁথুনিতে টিনশেড এই বাড়িতে রয়েছে দুটি কক্ষ। দুপাশে লোহার গ্রিল দিয়ে বারান্দা করা হয়েছে। রয়েছে রান্নাঘর, গোসলখানা ও শৌচাগার। বাড়িটি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে এখানে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক এক খণ্ড জায়গাতে টিনশেড হাফ বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নাজিম উদ্দিন যে ঘরটিতে এতদিন ছিলেন সেটি সরকারের খাস জমিতে ছিল। এটি ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনও এতদিন জানতেন না। সরকারের এই খাস জমিটিও নাজিম উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

নাজিম উদ্দিন যে ঘরে থাকতেন সেই জমি কিছুটা সম্প্রসারণ করে ১৫ শতাংশ জমি তার নামে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে বলে ইউএনও জানান।

 

 

 

Top