ঢাকা, ||

যুব মহিলা লীগেও শুদ্ধি অভিযান শুরু: নাজমা আক্তার


যোগাযোগ

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২০

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় আসা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার মদতদাতা ও সঙ্গীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি নাজমা আক্তার।

তিনি বলেন, পাপিয়ার ঘটনার পর বিরূপ সমালোচনার মুখে পড়া যুব মহিলা লীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকম কার্যালয়ে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেন।

নিচে সাক্ষাৎকারটি‍ হুবহু তুলে ধরা হলো।

রাইজিংবিডি: আপনি দীর্ঘদিন রাজনীতি আছেন। যুব মহিলা লীগের দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদ সদস্যও ছিলেন। আপনি কীভাবে রাজনীতিতে এলেন?

নাজমা আক্তার:  আমার পরিবার হচ্ছে একটি রাজনৈতিক পরিবার।  আমার দাদা, চাচা, ভাইয়েরা—সবাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।  পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ফায়ারের শিকার হয়েছিলেন। লাইন করে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল সবাইকে, সেখানে আমার বাবাও ছিলেন। অনেকেই সেই ফায়ারে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বাবা বেঁচে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ক্ষত নিয়ে বেঁচেছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ছিলেন। চাকরি করতেন।  তাই সরাসরি রাজনীতি করতে পারতেন না। ভাইয়েরা সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন। যখন শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন আমি টুঙ্গিপাড়ায়। ক্লাস টেনে পড়ি। ওই সময়ে টুঙ্গিপাড়া ছাত্রলীগের ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক ছিলাম।  নেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। ১৯৮৪-৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হলাম। রোকেয়া হল ছাত্রলীগের দুই বার সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমি ১৯৮৯ সালে রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের নির্বাচিত জিএস।  ওই সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলাম।  তারপর যুব মহিলা লীগে আসা।

ছাত্রলীগ থেকে যারা সদ্য সাবেক হওয়া নেত্রীরা আছি তারা কী করবো, বিষয়টি নিয়ে নেত্রীর কাছে জানতে চাইতাম।  মহিলা লীগ আছে কিন্তু সেখানে সিনিয়ররা এত বেশি ছিলেন, তখন প্রশ্ন উঠলো—আমরা কোথায় যাবো? এজন্য তরুণ নেতৃত্ব বিকশিত করার উপলব্ধি থেকে প্রাক্তন ছাত্রনেত্রীদের দিয়ে যুব মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠা করেন শেখ হাসিনা। ২০০২ সালের ৬ জুলাই ১০১ সদস্যবিশিষ্ট যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।  ওই কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাই আমি।

রাইজিংবিডি: যুব মহিলা লীগ সংগঠন হিসেবে এখন কতটুকু শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করেন? দেশের রাজনীতিতে যুব মহিলা লীগের অবদান কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

নাজমা আক্তার: আমাদের সংগঠনে এখন ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার ৮০ ভাগ জেলায় সম্মেলন করে কমিটি করা আছে।  কিছু কিছু জেলায় আহ্বায়ক কমিটি আছে কিন্তু থানায় আমরা সম্মেলন করে কমিটি দিয়েছি। কিছু কিছু জেলায় ইউনিয়ন কমিটিও করেছি। সাংগঠনিকভাবে বিশাল একটি নেটওয়ার্ক আমাদের তৈরি হয়েছে। চাইলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব মহিলা লীগের বড় সমাবেশ করতে পারবো।

রাইজিংবিডি: সম্প্রতি যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।  এতে সংগঠন সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।  বিষয়টি সংগঠনে কতটা প্রভাব ফেলেছে?

নাজমা আক্তার: দেখুন, পাপিয়া একটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সারাদেশে আমাদের হাজার হাজার কর্মী আছে।  শত শত কমিটি আছে। এক পাপিয়ার অপকর্ম দিয়ে সংগঠনকে বিচার করলে চলবে না। আমি মনে করি এটি সংগঠন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে একটি শিক্ষা।  এখান থেকে আমরা নিজেদের মধ্যে যে ক্ষতগুলো আছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে পারি। এই ধাক্কার মাধ্যমে নতুন উদ্যোমে সংগঠনকে আরও বেশি শক্তিশালী করে এগোতে পারি।

রাইজিংবিডি: নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটিতে পাপিয়াকে না রাখার বিষয়ে পরামর্শ এসেছিল। সেখানে আপনারা সম্মেলন করেও কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি। পাপিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার ক্ষেত্রে আপনারা প্রভাবিত হয়েছেন কিনা?

নাজমা আক্তার: নরসিংদীর বিষয়টি আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। এটা একটি স্পর্শকাতর বিষয়।  এখানে এই ধরনের একটা জঘন্য ঘটনা ঘটে গেছে।  তাই কমিটি ঘোষণা করতে গিয়ে দুটি পক্ষ হয়ে যায়।  একপক্ষ একজনকে চায়, আরেক পক্ষ আরেকজনকে চায়। যুব মহিলা লীগের সভাপতি হিসেবে আমি নরসিংদী জেলার সভাপতিকে পছন্দ করেছিলাম। সেটি স্থানীয় নেতাদের সুপারিশে। তাদের পক্ষে আমি অবস্থান নিয়েছিলাম। আবার আমার সেক্রেটারি আরেকটি পক্ষের মতের ভিত্তিতে বলেছিলেন, সেক্রেটারিকে তিনি পছন্দ করেছেন। তিনি জানতেন না যে, পাপিয়া এই রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত। হয়তো তখন ছিল না। হয়তো বা ছিলও। যে কারণে বেশিরভাগই তাকে পছন্দ করেনি। সেটি হয়তো আমার সেক্রেটারি অপু উকিল বুঝতে পারেননি।

Top