ঢাকা, ||

বরিশালে বোরোর বাম্পার ফলন


অর্থনীতি

প্রকাশিত: ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০১৮

বরিশালের দশ উপজেলায় এবার বোরো  ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদনও বৃদ্ধি পেলেও চলতি মৌসুমে এখনও বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পরেছেন কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদের শুরুতেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার সদর উপজেলা, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, বানারীপাড়া, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বাকেরগঞ্জ, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এখন চলছে ধান কাটা ও মাড়াই কাজ। বসেনেই কৃষানীরাও তারাও ব্যস্ত রয়েছেন ধান উড়ানো ও শুকানোর কাজে। গত কয়েকদিনের টানাবর্ষণে কৃষক পরিবারে বোরো ধান নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
কৃষক কল্যান কুমার বলেন, চলতি মৌসুমে এক মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয়শ’ টাকা। আর বর্তমানে বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ছয়শ’ টাকা। ফলে এ বছর আমাদের খরচের টাকাও উঠবেনা। ধানের দাম কমপক্ষে এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা হলে কৃষকরা বেঁচে থাকতে পারবে। এছাড়াও কৃষকরা সরকারী উদ্যোগে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার জন্যও দাবি করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলার ১০ উপজেলায় ৫১ হাজার ছয়শ’ ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো। সেখানে ৫৩ হাজার তিনশ’ ১০ হেক্টরে কৃষকরা বোরো আবাদ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন।

বরিশালের সর্বত্র হাইব্রিড সাথি ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে এক শতক জমির ধান কর্তন করে তা মারাইয়ের পর দেখা গেছে একর প্রতি ধানের ফলন হয়েছে ১০০ মন। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকগুন বেশী। গত সোমবার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৮নং ওয়ার্ডের দিয়াপাড়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সিকদার ৮০ শতক জমিতে হাইব্রিড সাথি ধান চাষ করেছিলেন। কৃষকদের উন্নত শস্য ব্যবস্থাপনা ও শস্য বিন্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্নতা অর্জন করার লক্ষ্যে ব্র্যাক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আয়োজনে শষ্য কর্তন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হরিদাস শিকারী, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি রিপন চন্দ্র মন্ডল, কৃষিবিদ ফাহিমা হক, সুমন সিকদার ও আতিকুর রহমান।

Top