ঢাকা, ||

ভোটের মাঠে বাই-সাইকেল, নিরব প্রচারনায় ধানের শীষ


কাউখাল‌ী

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র কদিন পরেই ভোট যুদ্ধের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু নির্বাচনের এই শেষ মুহুর্তেও ভোটের মাঠে দেখা নেই জোট প্রার্থীর। শুরুতে দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে মতবিনিময় চালালেও এখন ভোটের মাঠে জোটের প্রার্থীর প্রচার প্রচারনা না থাকায় নেতাকর্মী ও সমার্থকরাও ভুগছেন হতাশায়। পাচ্ছেননা সঠিক কোন দিক নির্দেশনা। হাতে গোনা দুএকটি জায়গা ছাড়া নির্বাচনী প্রোস্টার-ব্যানারও সাটোনো নেই তাদের। গত কদিন যাবত প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থণার মাইকিং শোনা যাচ্ছেনা। মনোনয়ন পাওয়ার আগে পরে মাঠ চাঙ্গা থাকলেও শেষ বেলায় এসে চুপসে গেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

আর এ চিত্র পিরোজপুর-২ আসন (ইন্দুরকানী-ভান্ডারিয়া-কাউখালী)’র। আসনটির ৩টি উপজেলার মধ্যে তার নিজ এলাকা ভান্ডারিয়া ছাড়াও বিএনপির ভোট ব্যাংক খ্যাত ইন্দুরকানী ও কাউখালীতেও দৃশ্যমান প্রচারনা নেই ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের।

তবে শুরুতে মহাজোট প্রার্থীর বিপরীতে জোট প্রার্থীর নিরুত্তাপ প্রচরানায় নির্বাচনী মাঠ জমে না ওঠলেও গত দু’তিন দিনে ইন্দুরকানী উপজেলার কয়েকটি মতবিনিময় সভায় বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতি সহ সাধারন ভোটারদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ আসনটি নিয়ে শুরু থেকে ভোটাররা নানা হিসেব নিকেশ কষলেও ভোটের দিনক্ষন যতই এগিয়ে আসছে মাঠের চিত্র ততই বদলাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ নির্বাচনী এলাকাটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন আ.লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনটি থেকে তার দলীয় প্রতীক বাই-সাইকেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন এবার। তার পক্ষে প্রচারনায় মুখর জেপি সহ আ’লীগের নেতাকর্মীরা।  ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এলাকায় সবার কাছে পরিচিত। রাজনৈতিক হানাহানি, দ্বন্দ, সংঘাত, মতবিরোধ এসবের বাইরে গিয়ে সবসময় তিনি এলাকার উন্নয়নের রাজনীতিতে সময় দিতেন বিধায় সাধারন ভোটাররা তাকে পছন্দ করেন বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এমপি এবং মন্ত্রী থাকায় তার নিজ এলাকায় উন্নয়নও করেছেন প্রচুর। এলাকায় নিয়মিত সফর করে থাকেন তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পক্ষ থেকে সেন্টার কমিটি গঠন, সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, উন্ন্য়ন কর্মকান্ডের প্রচারপত্র বিলি ও মতবিনিময়ের মত নানান প্রচারনাও দৃশ্যমান। এ আসনে মোট ভোটের অর্ধেক রয়েছে তার নিজ উপজেলা ভান্ডারিয়ায়। তাই এটি জেপির দূর্গ হিসেবেও পরিচিত। সংগত কারনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে তিনি বর্তমানে এ আসনটিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নিজের রিজার্ভ ভোট ছাড়াও আ’লীগের ভোট যুক্ত হলে তিনি থাকবেন সুবিধা জনক অবস্থানে।

এ আসনটিতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু(বাই-সাইকেল) ও মোস্তাফিজুর রহমান  ইরান(ধানের শীষ) ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (হাত পাখা), বিএনএফ থেকে রেজাউল করীম গাজী (টেলিভিশন) ও সিপিবির আব্দুল হামিদ (কাস্তে) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করলেও ভোটের মাঠে এদের নিয়ে তেমন আলোচনা নেই।

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত নদী বেষ্ঠিত পিরোজপুর-২ (ইন্দুরকানী -কাউখালী-ভান্ডারিয়া) আসন। গত ১০ম সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনঃবিন্যাসের কারনে ইন্দুরকানী উপজেলাটি কাউখালী ও ভান্ডারিয়ার সাথে যুক্ত করা হয়। এর আগে ইন্দুরকানী (সাবেক জিয়ানগর) পিরোজপুর-১ আসনের সাথে যুক্ত ছিল।
এ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ২০ হাজার ২ শত ১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭ শত ১৩ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৯ হাজার ৪ শত ১৮ জন। এর মধ্যে ইন্দুরকানী উপজেলায় ৫৭১৯৩, কাউখালী উপজেলায় ৫৩৩৪৯ এবং ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০৯৬৬৯ জন ভোটার রয়েছে। আর মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৪টি।

ইন্দুরকানী উপজেলা জেপির সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি দীর্ঘদিন মন্ত্রী ও এমপি ছিলেন। তার হাত ধরে এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। এবার তিনি এ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

ইন্দুরকানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, বিএনপির প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় সারাদেশেই বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদের উপজেলায়ও ধানের শেিষর প্রচার গাড়ীতে হামলা হওয়ার কারনে প্রচার মাইক বন্ধ রয়েছে। এর পরে রয়েছে নেতাকর্মিদের মধ্যে হামলা-মামলার ভীতি। তাই এসব কারনে বিএনপির নেতাকর্মিরা নির্বিঘে মাঠে কাজ করতে পারছেনা। তবে আড়ালে তাদের ভোট প্রার্থণার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

Top