ঢাকা, ||

শেখ হাসিনার অবদান চিরস্মরণীয়: আল্লামা শফী


জাতীয়

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৮

অনলাইন ডেক্সঃ

হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমান মর্যাদা দিয়েছেন। তার এই স্বীকৃতিতে লাখো কওমী ওলামা ধন্য হয়েছে। এই অসামান্য অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র আয়োজনে শুকরিয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সংগঠনের চেয়ারম্যান আহমদ শফীর উপস্থিতিতে তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি নুরুল আমিন।

এতে শাহ আহমদ শফী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, সনদকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার উপদেশ, নিজের ও হেফাজতের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, ‘ওলামাদের দাবির প্রতি সম্মান দিয়ে শত আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কওমী মাদ্রাসার বিলটি পাস করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতা ও সাহসিকতার যে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন, নিঃসন্দেহে তা কওমী ওলামাদের প্রতি তার দরদপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। কেন না, মানুষের শুকরিয়া একটি নৈতিক দায়িত্ব।’

হেফাজত আমির বলেন, ‘কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সূচনালগ্ন থেকে সরকারি প্রভাবমুক্ত থেকে আল্লাহ তা’য়ালার উপর নির্ভরশীল হয়ে দল-মত-নির্বিশেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে অত্যন্ত বৈরি পরিবেশ ও হাজারো ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে আলেম সমাজ কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বিকশিত করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘কওমী মাদ্রাসা মূলত জনগণেরই প্রতিষ্ঠান। জনগণ আতঙ্কিত কিংবা কোনো রকম বিভ্রান্ত হয়, এমন কাজ সঙ্গতভাবে কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক করে না, করতে পারে না। জনগণের নৈতিক ও আত্মিক উন্নতি সাধনই তাদের অন্যতম দায়িত্ব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আহমদ শফী বলেন, ‘আপনার পিতা (বঙ্গবন্ধু) ইসলামের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। আপনার শাসনামলে লাখো কওমী ওলামা আপনার স্বীকৃতি দ্বারা ধন্য হয়েছে। আপনার এ অসামান্য অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আমার রাজনৈতিক পরিচয় নেই

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে হেফাজত আমির বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীভাবে বলতে চাই— আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক কোনো প্ল্যাটফর্ম ও দলের সঙ্গে আমার এবং হেফাজতে ইসলামের নীতিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মনে রাখবেন, মুসলমানদের ঈমান আকিদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষাই হেফাজতে ইসলামের মূল লক্ষ্য। হেফাজতে ইসলামের নীতি ও আদর্শের উপর আমরা অটল ও অবিচল আছি। তাই আমার কর্মকৌশল ও সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগে নেই। আমার কোনো বক্তব্য-বিবৃতিকে কেন্দ্র করে অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচার করার সুযোগ নেই।’

স্যোশাল মিডিয়ায় বিভ্রান্ত হবেন না

আহমদ শফী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে নানা ফেতনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ বাড়ছে। আমাকে ও হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে। কোনো ইলেক্ট্রনিক ও স্যোশাল মিডিয়ার কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সঙ্কটকালে উলামায়ে কেরাম, ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সিসাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এটি সময়ের দাবি।’

কওমী শিক্ষার্থীদের আল্লামা শফী বলেন, ‘সনদের স্বীকৃতির মাধ্যমে তোমাদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হয়েছে। তোমাদের দ্বীনি খেদমতের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের মেধা ও প্রতিভা কাজে লাগিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

আল্লামা আহমদ শফীর ৪ দাবি

অনুষ্ঠানে আল্লামা শফী চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো— মহান আল্লাহ, মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অবমাননা বন্ধ। খতমে নবুওয়তের আকিদা বিশ্বাস পরিপন্থী অপতৎপরতারোধ। দাওয়াত ও তাবলিগের মহান কাজ ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধায়নে সঠিক পন্থায় পরিচালনার ব্যবস্থা করবেন ও ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দায়ের সকল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার।

দাবিগুলোর প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

গত ১১ এপ্রিল দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান মর্যাদার ঘোষণা দেয় সরকার। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তারই সূত্র ধরে ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হয়।

এ স্বীকৃতির জন্য শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাওলানা মাহফুজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আওয়ামী লীগের ধর্মসম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।

Top