ঢাকা, ||

কলরেট বাড়ায় অননেটে কথা কমেছে, বেড়েছে অফনেটে


তথ্যপ্রযুক্তি

প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

অনলাইন ডেক্সঃ

দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর নতুন কলরেট নির্ধারণের পর থেকে নিজ অপারেটরের মধ্যে অর্থাৎ অননেটে কলের সংখ্যা কমে গেছে। আর অফনেট অর্থাৎ এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কলের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে নতুন কলরেট নির্ধারণের ফলে গ্রাহকদের কথা বলা কমে গেছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট সর্বনিম্ন কলরেট ২৫ পয়সা মিনিট থেকে বাড়িয়ে ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করে বিটিআরসি। আগে অননেটে ন্যূনতম কলরেট ছিল ২৫ পয়সা ও অফনেটে ন্যূনতম কলরেট ছিল ৬০ পয়সা।

তবে বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম কলরেট ৪৫ পয়সা। ফলে অননেটে কথা বলার ব্যয় বাড়লেও অফনেটে কথা বলার ব্যয় কমেছে। দেশের মানুষ সাধারণত অননেটে কথা বলার ক্ষেত্রেই বেশি অভ্যস্ত। খরচ কমানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের একই অপারেটরের ফোন ব্যবহার করে থাকেন এবং ওই অপারেটরের দেওয়া সর্বনিম্ন কলরেট ২৫ পয়সা, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি প্যাকেজের মাধ্যমে সুবিধা নিতেন তারা।

অভিন্ন কলরেট পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এসব গ্রাহক। এখন একটি কলের সর্বনিম্ন চার্জ যদি ৪৫ পয়সা হয়, তাহলে তা ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জসহ গিয়ে দাঁড়ায় ৫৫ পয়সায়। ফলে যেসব গ্রাহক সাধারণত একই অপারেটরে ফোন করে থাকেন তাদের কারও কারও ফোন বিল ৮০ শতাংশের মতো বেশি বেড়ে গেছে।

বিটিআরসি’র দুই মাসের তথ্য মতে, নিজ অপারেটরের মধ্যে অর্থাৎ অননেটে কলের সংখ্যা কমে গেছে। তবে অফনেট অর্থাৎ এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কলের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আগে অননেট অর্থাৎ নিজ অপারেটরে দিনে কল হতো প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ মিনিট। এখন ১০ শতাংশ কমে তা নেমে এসেছে প্রায় ৫৬ কোটি ৮০ লাখ মিনিটে।

তবে অফনেটে অর্থাৎ এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কলের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ বা প্রায় ১৮ কোটি মিনিট। আগে যেখানে অননেট ও অফনেট কলের অনুপাত ছিল ৮০:২০, এখন সেটি চলে এসেছে ৭৬:২৪।

এদিকে গ্রাহকদের কলের ওপর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নতুন কলরেট নির্ধারণ করায় গ্রাহকদের কথা বলা আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে। তবে অপারেটরগুলোর আয় আগের তুলনায় বেড়েছে।

নতুন কলরেট নির্ধারণের দুই সপ্তাহ আগে এবং পরের দুই সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী গ্রাহকদের কল করার পরিমাণ ছয় শতাংশের বেশি কমেছে। আগে প্রতিদিন অপারেটরগুলোর গড়ে প্রতিদিন কলের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯ কোটি ৬০ লাখ মিনিট। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৪ কোটি ৮০ লাখ মিনিটে। অর্থাৎ দিনে কথা বলা কমেছে চার কোটি ৮০ লাখ মিনিট।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ চায় সর্বোচ্চ সেবা, সর্বনিম্ন খরচ। গত বছর গ্রামীনফোন ২ হাজার ৭ কোটি টাকা শুধু প্রফিট করেছে। একইভাবে অন্য অপরেটরগুলোও একইভাবে প্রফিট করছে।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসাই বলেন গ্রাহকরাই সবকিছু, তাদেরকে প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু অপরেটরগুলো সে বিষয় কখনো মাথায় নেয় না। তারা দাম বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনায়ও বসে না। হুটহাট নিজেদের মতো করে কলরেট বৃদ্ধি করে।

Top