ঢাকা, ||

তরুণ প্রজন্মের কাছে আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


জাতীয়

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে তা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এই ভোট চান।

তিনি চারটি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত থেকে উপজেলা পর্যায়ের ৬৬টি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, ৬টি জেলার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সিনথেটিক টার্ফ সমৃদ্ধ মাল্টি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় জনসাধারণ ও উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম দেশের সব থেকে বড় শক্তি। আওয়ামী লীগের শাসনে গত ১০ বছরে দেশের জনগণ অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। কাজেই আমাদের সব থেকে বড় শক্তি তরুণ প্রজন্মের কাছে আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চাইব, যাতে করে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাটা বজায় থাকে।’

২০২০ সালের মধ্যে দেশে কোনো ক্ষুধা-দারিদ্র থাকবে না দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীর নির্বাচনে যদি বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেয় এবং আমরা যদি আবারো সরকার গঠন করে দেশের সেবা করতে পারি, তাহলে আমি এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি— ২০২০ সালের মধ্যে দেশে কোনো ক্ষুধা-দারিদ্র থাকবে না এবং দেশকে আমরা আরো উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।

তিনি যুব সমাজের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আমাদের যুব সমাজ দেশের উন্নয়নে তাদের মেধা এবং মননকে কাজে লাগাবে এবং নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা করবে যেন এই দেশকে আরো দ্রুত কিভাবে উন্নত করে গড়ে তোলা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমরা ক্রীড়া এবং যুব উন্নয়কে সবসময় গুরুত্ব দেই।’

ভিডিও কনফারেন্সে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বিকেএসপির মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান বক্তৃতা করেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল এ সময় গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে তখনই খেলাধুলাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, তার সরকার একেবারে তৃণমূলের স্কুল পর্যায় থেকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ডকাপ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খেলোয়াড়দের বের করে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সার্ক অনূর্ধ্ব-১৫ এবং ১৮ ফুটবলে বাংলাদেশের নারীরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে, ইসলামিক সলিডারিটি গেম-২০১৭-তে শুটিং এর মিশ্র দ্বৈতে স্বর্ণ পদক এবং ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য পদক লাভ করে, আর্চারিতে ২০১৭-তে ৬টি স্বর্ণ পদক এবং প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীরাও সাফল্য লাভ করে।

জাতীয় ক্রীড়ানীতির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকার ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখাটা জরুরি উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এই গতিধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে কারণ জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং আমাদের দেশকে আমাদেরই এখন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আজকের যারা শিশু-কিশোর এবং তরুণ তাদের ভবিষ্যতটা যেন আরো বেশি সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়, সফল হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তার সরকার শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা প্লান-২১০০’ গ্রহণ করেছে।

Top