ঢাকা, ||

অসাধারন জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের


খেলাধুলা

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮

বলতে গেলে নীবর হুংকারই দিয়ে যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। বাজে সময়ের বৃত্তে বন্দি দলটি। তারপরও বাংলাদেশ সফরে এসে কিনা নিজেদের ফেভারিট দাবি করে বসেন।

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা তো এখান থেকেই নিজেদের ফিরে পাওয়ার ঘোষণা দেন। একে তো স্বাগতিকরা নীরব হুংকারই মনে করবে। তবে ময়দানে মাসাকাদজার দল লড়াইটাও জমাতে পারল না।

এক রকম অসহায় আত্মসমর্পণ করে বসল তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে। রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ২৮ রানে হারিয়ে সিরিজ শুরু করল টাইগাররা।

তবে সফরকারীদের লেজের ব্যাটসম্যানদের শেষ সময়ের প্রতিরোধে জয়টা বড় হয়নি, এই যা আক্ষেপ থাকবে মাশরাফিদের। অসময়ের প্রতিরোধের পরও বাংলাদেশের জয়টা বেশ দাপুটেই বলতে হচ্ছে।

দিবারাত্রির ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস ১৪৪ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। দু’জনেরই যেটি ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

এছাড়া সপ্তম উইকেটে দু’জনে দেশের পক্ষে গড়েছেন রেকর্ড পার্টনারশিপ। বিপর্যয়ের মুখে ১২৭ রান যোগ করেন তারা। জবাবে টাইগার বোলিং তোপে ৯ উইকেটে ২৪৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

স্কোর বোর্ডে বাংলাদেশ ২৭১ রান যোগ করার পরই ম্যাচটি আসলে কঠিন হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের জন্য। মিরপুরের উইকেটে টাইগার বোলিংয়ের বিপক্ষে এই রান চেজ করা যে মোটেও সহজ কিছু নয়। হোক না সাকিব আল হাসান নেই। কিন্তু, মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার, মাশরাফি বিন মুর্তজার নিয়ন্ত্রিত বোলিং। ওদিকে মিরাজ আর অপুর স্পিন বিষ। এই চ্যালেঞ্জগুলো জয় করেই সাফল্য পেলে আক্ষরিক অর্থেই জিম্বাবুয়ে এদিন ফেভারিটের দাবি তুলতে পারতো।

 

কিন্তু, বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশটির বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের রেকর্ড আরো সুসংগত করেছে। দু’দলের মুখোমুখি ৭০ ওয়ানডেতে এখন বাংলাদেশের জয় ৪২, জিম্বাবুয়ের ২৮। আর সফরকারীদের বিপক্ষে এ নিয়ে টানা ১১ ওয়ানডে জিতল বাংলাদেশ।

হোম অব ক্রিকেটে কৃত্রিম আলোয়া জিম্বাবুয়ের শুরুটা অবশ্য অন্য রকম বার্তা দিয়ে। হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সঙ্গে ওপেন করতে নেমে কেপাস জুয়াও ভয় ধরালেন। ২ ছক্কা ও ৪ চারে ২৪ বলে ৩৫ রান করে ফিরলেন জুয়াও। তার ফেরার আগে বিনা উইকেটে ৭ ওভারে ৪৮ রান করে ফেলে জিম্বাবুয়ে।

তবে অষ্টম অভারে প্রথম আক্রমণে এসেই উইকেট তুলে নেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। সেটিও দুর্দান্ত জুয়াওয়ের উইকেট। এরপর মিরপুরের দর্শক গ্যালারি ক্ষণে ক্ষণে গর্জে উঠল উইকেট উৎসবে।

নাগিনখ্যাত নাজমুল ইসলাম অপু ফেরালেন ব্র্যান্ডন টেইলরকে (৫)। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হ্যামিল্টন মাসাকাজদা রানআউট ২১ রান করে।

সিকান্দার রাজা ৭ রানে অপুর দ্বিতীয় শিকার এবং ২৪ রান করা ক্রেইগ আরভিন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ট হলে প্রবল চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ১০০ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট।

সেখান থেকে শেন উইলিয়ামস এবং পিটার মুর লড়াইয়ের চেষ্টা করলেন। কিন্তু, মুরকে নিজের নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান মিরাজ। ২৬ রান করে ফেরেন মুর। ২ রানের ব্যবধানে ত্রিপানো বিদায় নেন। ২০ রানের ছোট্ট ঝড় উপহার দিয়ে সাজঘরে মাভুতা। মিরাজের বলে কট অ্যান্ড বোল্ট তিনি।

৪০ ওভারে ১৬৯ রানে ৮ উইকেটে হারানো জিম্বাবুয়ের জয়ের আশা শেষ তখনই। কিন্তু, এরপর বাংলাদেশের দর্শকদের জয়কে বিলম্বিত করেছেন উইলিয়ামস এবং কাইল জারভিস। নবম উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন এই দু’জন।

শেষ দুই ওভারে ৪৯ রান প্রয়োজন ছিল জিম্বাবুয়ের। উইলিয়ামস-জারভিস সেই ম্যাচ বের করে নিয়ে যাবেন, এমন ধারণা অসম্ভব হলেও দুটি বিশাল বিশাল ছক্কা হাকিয়ে জারভিস ক্ষণিক ভয়ই ধরালেন! যে মাহমুদউল্লাহকে ছক্কা হাঁকালেন, সেই মাহমুদউল্লাহই তাকে ফিরিয়ে দেন।

জারভিস ৩৩ বলে ৩৭ রান করেন ৩ চার ও ২ ছক্কায়। শেষ ওভারে যখন জিম্বাবুয়ের সামনে ৩৬ রানের প্রায় অসম্ভব সমীকরণ, তখন সাইফউদ্দিন এলেন বল করতে। মোট ৭ রান ব্যয় করেন তিনি। বাংলাদেশ পায় ২৮ রানের জয়।

টাইগারদের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। ২ উইকেট নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচসেরা হয়েছেন ১৪৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা ইমরুল কায়েস।

তবে বাংলাদেশের জয়ের মঞ্চটা তৈরি হয় ইমরুল কায়েস ও সাইফউদ্দিনের ব্যাটে। শুরুতে টপ-অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।

ওপেনার ইমরুল কায়েস ছিলেন যার মধ্যে ব্যতিক্রম। একা দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মোহাম্মদ মিথুন থিঁতু হয়েও যখন ফিরে যান, বিপদ বাড়ে টাইগারদের। ৪০ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ রান করেন মিথুন।

কিন্তু, ১৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আসল গল্পটা লিখেন ইমরুল ও সাইফউদ্দিন মিলে। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে ওপেন করতে নেমে ১৪০ বলে ১৪৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস সাজান ইমরুল, ১৩ চার ও ৬ ছক্কায়।

বাঁ-হাতি এই ওপেনারে তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি উৎসর্গ করেছেন সদ্য পৃথিবীতে আসা সন্তানকে। যেটি ফুটে উঠে তার উদযাপনেও।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ সেরার পুরস্কারও হাতে উঠে ইমরুলের। তবে ইমরুলের কারণে একেবারেই পার্শ্ব নায়ক হতে হচ্ছে সাইফউদ্দিনকে। নইলে তার ৬৯ বলে ৫০ রানের ইনিংসটি কম কোথায়? ৩টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। প্রকৃত পেস বোলিং অলরাউন্ডারের মতোই সেবা দিয়ে গেলেন দলকে।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে সফল বোলার কাইল জারভিস, ৩৭ রানে ৪ উইকেট। আর তেন্দাই চাতারা ৫৫ রান খরচায় পান ৩ উইকেট।

Top