ঢাকা, ||

জিম্বাবুয়ের সামনে বাংলাদেশের ‘আত্মবিশ্বাসী’ চ্যালেঞ্জ


খেলাধুলা

প্রকাশিত: ৮:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮

অন্য কোনো দল হলে নিজ দেশেই হয়তো প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো। টানা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি একটি দল, অথচ নতুন একটি মিশনে পা দেওয়ার আগে কিনা নিজেদেরই ফেভারিট বলে দিচ্ছে তারা! দলটার নাম জিম্বাবুয়ে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।

না, শক্তিমত্তায় দুই দলের ১৯-২০ চিত্রটি আর নেই। বাংলাদেশ জিম্বাবুইয়ানদের পেছনে ফেলে গেছে অনেক আগেই। তারপরও না হয় নিকট অতীতে দুই দলের উত্তাপমাখা লড়াইগুলো বিবেচনায় জিম্বাবুয়ের আত্মবিশ্বাসকে স্বাভাবিকই মানা যেতো। কিন্তু বাংলাদেশ যে জিম্বাবুয়ের তুলনায় অন্য মেরুতে দাঁড়িয়ে। যারা কিনা এশিয়া কাপের মতো আসরে সদ্যই ফাইনাল খেলে ফিরেছে। কিন্তু সবকিছু মাথায় রেখেই জিম্বাবুয়ে কথা বলছে আত্মবিশ্বাসের সুরে। যাদের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাতেই মাঠে নামতে হচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে।

রোববার মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে যে ম্যাচ মাঠে গড়াবে বেলা আড়াইটায়।

বাংলাদেশে এসেই আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে দল। যদিও একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটিতে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার মুখোর কথা তার দলের খেলোয়াড়রা অনুবাদ করতে পারেনি মোটেও। বিসিবি একাদশের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে তারা। যে দলে খেলেছে এই সিরিজের স্কোয়াডে থাকা মাত্র তিন টাইগার।

তারপরও আত্মবিশ্বাসে এতটুকু চিড় ধরছে না জিম্বাবুয়ের দলের। শনিবার জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা তো জানিয়ে দিয়েছেন সেটাই। এমনকি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তো সিরিজে ফেভারিটের জায়গায়ই বসিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের। ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ শেষ ক’বছরে অনেক উন্নতি করেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে। আমরা প্রায়ই তাদের বিপক্ষে খেলেছি। তাই আমাদের খুব ভালো সুযোগ আছে। কিন্তু ফেভারিট ট্যাগের কথা বললে আমি জিম্বাবুয়েকেই সেখানে বসাতে চাইব,’ বলেন তিনি। এতো কিছুর পরও জিম্বাবুয়ের এই আত্মবিশ্বাসকে নিশ্চয়ই সমীহ না করে উপায় কি!

আসলে বাংলাদেশ দলও জিম্বাবুয়েকে নিচ্ছে বেশ সিরিয়াসভাবেই। দলের দুই সেরা তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল নেই। তাদের জায়গায় তরুণ কিছু খেলোয়াড়দের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যে সেই সুযোগটা নিচ্ছে এটা অন্তত নিশ্চিত। তবে সেটা জয়ের জন্য শতভাগ ফোকাস রেখেই।

অধিনায়ক মাশরাফি প্রতি ম্যাচের মতো এই সিরিজকেও নিচ্ছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে, ‘চ্যালেঞ্জ অবশ্যই প্রত্যেক ম্যাচে যেটা থাকে সেটাই। সবার প্রত্যাশা যেটা আমরা জিতবো…। জেতার আশা যেটা সবাই করছে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, অন্য দলের বিপক্ষে যে চ্যালেঞ্জটা ছিল, এমনকি এশিয়া কাপে যেমন চ্যালেঞ্জ ছিল এখানেও সেটাই থাকবে।’

কিন্তু বাড়তি একটা চ্যালেঞ্জও যে থাকছে। মাশরাফির বলা কথাই টানা যাক, ‘আমাদের এই সিরিজে শতভাগ ক্রিকেটই খেলতে হবে। হয়তো বা জিতলে সবাই বলবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই হওয়ার কথা ছিল। হারলে কিন্তু ভিন্ন কিছু হবে।’

অর্থাৎ বাংলাদেশকে রোববার মাঠে নামতে হবে যে করেই হোক জয় ছিনিয়ে নিতে। সাকিব-তামিম ছাড়া একটি চ্যালেঞ্জ তো আছেই। থাকছে কোনোভাবে পচা শামুকে পা না কাটার চ্যালেঞ্জও। আর জিম্বাবুয়ের এই সিরিজ দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়েরর কথা তো থাকছেই।

সব মিলে আত্মবিশ্বাসী জিম্বাবুয়ের সামনে অন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। যে চ্যালেঞ্জ কে ‘বড়’ চ্যালেঞ্জও বলা যেতে পারে।

Top