ঢাকা, ||

সুদী ঋণ নিয়ে ব্যবসার আয় কি হালাল?


ইসলাম

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

প্রশ্ন :

কেউ যদি ব্যাংক থেকে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কোন হালাল ব্যবসা করে এবং এই ব্যবসার আয় থেকে ব্যাংকের ঋণ (সূদসহ) পরিশোধ করে। তাহলে কি তার আয় হালাল হবে? আর দুনিয়াতে সুদের মন্দ পরিণতিটা কেমন হয় – জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর :

হ্যাঁ, তার আয় তো হালাল হবে। তবে তার সূদ দেওয়ার জঘন্যতম গোনাহ হবে। হাদীস শরীফে এসেছে সূদ দেওয়া ও নেওয়া উভয়টি বরাবর। সূদী মুআমালায় সম্পৃক্ত হওয়া আল্লাহ তাআলার সাথে যুদ্ধ করার শামিল। সূদ এমন একটি ভয়াবহ গোনাহ যার ভয়াবহতা আল্লাহ্‌ তাআলা এভাবে বর্ণনা করেছেন-

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ فَأْذَنُواْ بِحَرْبٍ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ

“সূদের ভয়াবহতা জানার পরেও যদি তোমরা ছেড়ে না দাও , তবে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হও” -সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৭৯

কত বড় মারাত্মক কথা, আল্লাহ্‌ তাআলা খালেক হয়ে সামান্য মাখলূকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন। পুরো কুরআন শরীফে মাত্র এই একটি জায়গায় আল্লাহ্‌ তাআলা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে মূলত যুদ্ধ ঘোষণা উদ্দেশ্য নয় বরং সূদের ভয়াবহতা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য।

অনুরূপভাবে হাদীসে যে সূদ নেয় ও সূদ দেয় উভয়ের উপর লানত এসেছে।

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ

অর্থঃ সূদ যে খায় এবং দেয় তাদের উপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লানত দিয়েছেন।–সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১৭৬

কাজেই কোন মুমিন কখনো আল্লাহ তাআলার সাথে যুদ্ধ করত সূদ নিতেও পারে না এবং দিতেও পারে না। সূদ দেওয়া ও নেওয়া উভয়টি আল্লাহ তাআলা এবং তার রাসূলের সাথে যুদ্ধ করার নামান্তর।

এ যুদ্ধের ফলে দেখা যায় সুদ দাতা ও গ্রহীতা উভয় জনই আখেরে চূড়ান্ত পর্যায়ে অবর্ণনীয় ধ্বসের সম্মুখীন হয়। কারো বাহ্যিকতায় খুব লাভবান মনে হলেও তা খুবই সাময়িক এবং খোঁজ নিলে তার ব্যক্তি বা পারিবারিক পর্যায়ে এমন সব দুঃখ-দুর্দশার কথা জানা যায়, যা তার অর্থোপার্জনের সকল সুখকে নস্যি করে দেয়। সুখের জন্যই অবৈধোপায়ে যে অর্থ উপার্জন, তা-ই হয়ে ওঠে জীবনের যতো অনর্থ ও দুর্দশার মুল। তাই সুদে ঋণ দেওয়া বা একটু বড় ব্যবসার জন্য সুদে ঋণ গ্রহণ করা – উভয় কাজ থেকেই মুমিন-মুসলমান নির্বিশেষে সকল মানুষেরই বিরত থাকা একান্ত কর্তব্য। কারণ, সুদ যখন ব্যাপক হয়, সমাজ থেকে শান্তি ও সমৃদ্ধি পুরোপুরি উঠিয়ে নেওয়া হয়, একটি পুরো সমাজ ও জাতি একত্রে ধ্বংসের গহ্বরে নিমজ্জিত হয়।

Top